ঠাকুরগাঁও ণীশংকৈলে রাজা টংকনাথের জমিদার বাড়ি অবহেলা অযত্নে পড়ে আছে, সংরক্ষণের অভাবে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে
ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধিঃ---------ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল উপজেলায় অবস্থিত ঐতিহাসিক রাণীশংকৈল জমিদার বাড়ি—যা রাজা টংকনাথের রাজবাড়ি নামেও পরিচিত—আজ সংরক্ষণের অভাবে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে। ব্রিটিশ আমলের জমিদারি ঐশ্বর্য ও শিক্ষিত, প্রগতিশীল নেতৃত্বের স্মারক এই স্থাপনাটি একসময় এলাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল।
১৯১৫ সালে বুদ্ধিনাথ চৌধুরীর পুত্র রাজা টংকনাথ চৌধুরী এই রাজবাড়িটি নির্মাণ করেন। রাণীশংকৈল উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১ থেকে ১.৩ কিলোমিটার দূরে কুলিক নদীর তীরে প্রায় ১০ একর জমির উপর অবস্থিত এই স্থাপনাটি মালদুয়ার জমিদার বাড়ি নামেও পরিচিত। তবে স্থানীয়দের কাছে এটি ‘রাজা টংকনাথের বাড়ি’ নামেই বেশি পরিচিত।
রাজবাড়িটির নির্মাণশৈলীতে ভিক্টোরিয়ান অলঙ্করণ ও আধুনিক স্থাপত্যরীতির অপূর্ব সমন্বয় লক্ষ্য করা যায়। বিশাল সিংহদ্বার অতিক্রম করলেই চোখে পড়ে এর নান্দনিক কারুকাজ, যা তৎকালীন জমিদারি রুচি, সামর্থ্য ও নান্দনিকতার পরিচয় বহন করে।
রাজা টংকনাথ ছিলেন তৎকালীন বৃহত্তর দিনাজপুর জেলার প্রথম বি.এ পাশ করা ব্যক্তি।
তিনি কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বি.এ ডিগ্রি অর্জন করেন। রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনেও তার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বেঙ্গল লেজিসলেটিভ কাউন্সিল-এর সদস্য ছিলেন এবং টানা ১৫ বছর জেলা বোর্ডের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি প্রথম ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবেও কাজ করেন।
প্রগতিশীল চিন্তাধারার মানুষ রাজা টংকনাথ রাণীশংকৈল পাইলট স্কুল ও পীরগঞ্জ পাইলট স্কুল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এ অঞ্চলে শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তার এসব উদ্যোগ আজও এলাকার মানুষের কাছে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণীয়।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, ঐতিহাসিক এই জমিদার বাড়িটি দ্রুত সংস্কার ও সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া না হলে ব্রিটিশ আমলের এই মূল্যবান নিদর্শন ভবিষ্যতে সম্পূর্ণরূপে হারিয়ে যেতে পারে।