
গোপালগঞ্জে ভূমিদস্যুদের হামলায় গুরুতর আহত ৩, একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক
জেলা প্রতিনিধি গোপালগঞ্জঃ——-গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার কাঠি ইউনিয়নে ভূমিদস্যুদের হামলায় একই পরিবারের তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
ঘটনাটি ঘটে গত ৮ জানুয়ারি সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে। আহতদের মধ্যে বাবুল সরদারের বড় ছেলে রবিউল সরদার ভূমিদস্যুদের ধারালো অস্ত্রের কোপে গুরুতর আহত হন। পরে তাকে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের ভাষ্যমতে, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গোপালগঞ্জ সদর থানাধীন কাঠি ইউনিয়নের কাঠি মৌজায় অবস্থিত বিআরএস খতিয়ান নং–৭৫৪, দাগ নং–৯৬৫ অনুযায়ী নিজ মালিকানাধীন জমিতে বাবুল সরদার ও তার তিন সন্তান কাজ করছিলেন। এ সময় দেশীয় অস্ত্র রামদা, লোহার রড ও হাতুড়ি নিয়ে একদল সন্ত্রাসী ভূমিদস্যু তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, হামলাকারীরা এলাকার চিহ্নিত লাঠিয়াল, দাঙ্গাবাজ ও ভূমিদস্যু প্রকৃতির ব্যক্তি। ভুক্তভোগীদের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় দীর্ঘদিন ধরে ভুক্তভোগীদের জমি জোরপূর্বক দখল করে ভোগ করে আসছে। জমি দখলে বাধা দেওয়ায় বাবুল সরদারের বড় ছেলে রবিউলের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়।
এ ঘটনায় মৃত ইনসার উদ্দিন সরদারের ছেলে বাবলু সরদার (৬৫) বাদী হয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে অভিযুক্তদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে— হিংগুল সরদারের ছেলে মো. শওকত সরদার (৬০), মনিরুল সরদার (৫৫), শওকত সরদারের ছেলে নাজমুল সরদার (২৭), পিং কুটটি সরদারের ছেলে আব্দুল্লাহ সরদার (২৮), বাইজিদ সরদার (২৫), সকলেই কাঠি দক্ষিণপাড়া এলাকার বাসিন্দা। এ ছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরও ২/৩ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী বাবুল সরদার বলেন,
“আমি ও আমার সন্তানরা নিজেদের জমিতে কাজ করার সময় পরিকল্পিতভাবে আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। যারা হামলা করেছে তারা সবাই এলাকার ভূমিদস্যু ও সন্ত্রাসী। তারা দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার জোরে আমাদের হয়রানি করে আসছে। আজ আমার ছেলেকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছে এবং আমাদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে। বর্তমানে আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
তিনি হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা এবং নিজের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
মন্তব্য করুন