লক্ষ্মীপুর -৪ (রামগতি ও কমলনগর)
জামায়াত প্রার্থী হাফিজ উল্যাহর নির্বাচনী ইশতেহার
কমলনগর লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধিঃ------
লক্ষ্মীপুর -৪ (রামগতি ও কমলনগর) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী এ আর হাফিজ উল্যাহ স্থানীয় সমস্যা ও সম্ভাবনার ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে তার ব্যতিক্রমী নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেছেন। (আজ) শনিবার সকালে কমলনগর উপজেলা সদর হাজিরহাটের একটি হোটেলে এ উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
মেঘনা নদীর ভাঙনরোধ ও দুর্নীতিমুক্ত জনপদ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে এ আর হাফিজ উল্যাহ তার লিখিত ইশতেহার প্রকাশে তুলে ধরেন,
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে একটি ন্যায়বিচার ভিত্তিক ও আধুনিক রামগতি-কমলনগর গড়ার মহাপরিকল্পনা রয়েছে তার। তিনি বলেন, "ভোট একটি আমানত। ফ্যাসিবাদমুক্ত নতুন বাংলাদেশ গড়তে সৎ ও দক্ষ নেতৃত্বের বিকল্প নেই। আমি নির্বাচিত হলে রামগতি ও কমলনগরকে একটি আদর্শ ও কল্যাণমুখী জনপদ হিসেবে গড়ে তুলব।"
এছাড়া ভুলুয়া নদী খনন ও সংস্কারের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা দূর করার বিশেষ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ করে তুলতে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে বাধ্যতামূলক বেসিক আইটি কোর্স এবং কারিগরি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের প্রসারে আর্থিক প্রণোদনা ও উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান তিনি।
সরকারি-বেসরকারি সকল দপ্তরে ঘুষ ও দুর্নীতি বন্ধে 'জিরো টলারেন্স' নীতি ঘোষণার পাশাপাশি নাগরিক হয়রানি বন্ধে বিশেষ 'মনিটরিং সেল' ও 'অনলাইন অভিযোগ কেন্দ্র' স্থাপনের অঙ্গীকার করা হয়েছে।
রামগতি অঞ্চলের লোডশেডিং কমাতে নতুন পাওয়ার গ্রিড স্থাপন এবং দক্ষিণ অঞ্চলে ফায়ার সার্ভিসের একটি সাব-ইউনিট স্থাপনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে ইশতেহারে।
আলেকজান্ডার সরকারি কলেজকে অনার্স মানে উন্নীত করা, নতুন দুটি মানসম্মত কলেজ স্থাপন এবং কওমি ও ইবতেদায়ি শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি আদায়ের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মসজিদ-মন্দিরের উন্নয়ন ও ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী বৃদ্ধির বিষয়টিও ইশতেহারে গুরুত্ব পেয়েছে।
অভিযান চলাকালীন জেলেদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান, চরাঞ্চলে গভীর নলকূপ স্থাপন এবং বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ভাতা সহজীকরণের মাধ্যমে প্রান্তিক মানুষের সেবায় নিয়োজিত থাকার অঙ্গীকার করেন হাফিজ উল্লাহ।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, "বারবার পুরোনো রাজনীতির বেড়াজালে দেশ থমকে দাঁড়িয়েছে। এবার পরিবর্তনের সময়। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দিয়ে একটি বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে শরিক হতে আহবান জানান তিনি।
এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কমলনগর উপজেলা পরিষদ সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা হুমায়ুন কবির, জামায়াত কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের সদস্য আব্দুস সাত্তার সুমন, আসন পরিচালক অধ্যাপক মিজানুর রহমান, ডা. নুর উদ্দিন মাহমুদ, কমলনগর উপজেলা আমীর মাওলানা আবুল খায়ের, রামগতি উপজেলা আমীর মাওলানা আবদুর রহিম প্রমুখ।