
নিজস্ব সংবাদদাতাঃ-------------আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ক্রমেই তীব্র হয়ে উঠছে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিভিন্ন দলের সাংগঠনিক সক্ষমতা, জোটগত সমীকরণ, মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম এবং ভোটার প্রবণতার ভিত্তিতে সম্ভাব্য আসন প্রাপ্তির একটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট তুলনামূলকভাবে এগিয়ে আছে। উল্লেখ্য চিত্রের এই প্রেডিকশনটি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিভন্ন জরিপের ফলাফল, গাণিতিক প্রবাবিলিটি স্টাডি, এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে তৈরি।
বর্তমান প্রবণতা অপরিবর্তিত থাকলে বিএনপি জোট প্রায় ১৭০-১৮০টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে জামায়াত সংশ্লিষ্ট জোট প্রায় ৮০-১০০টি আসনের মধ্যে অবস্থান করতে পারে। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী, ছোট রাজনৈতিক দল মিলিয়ে প্রায় ২৫-৩০ টি আসন পেতে পারে। যদিও এমন ফল হলেও সেটা বিনপি জোটের জন্য হতাশার বৌকি?
৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে যেখানে বিনপির আসন পাবার সম্ভাবনা ছিল ২৬০ এর অধিক সেখানে এক বছরের ব্যবধানে ৮০-১০০ টি আসন কমার সম্ভাবনা তৈরী হয়েছে। জামাতের অপপ্রচারের পাশাপাশি, এই নির্বাচনে প্রার্থী সিলেকশনে এবং পলিসি লেভেলে বিনপি বড় ধরণের ভুল করছে। বিশেষ করে দুর্নীতিবাজ, ঋণখেলাপিদের মনোনয়োন দিয়ে। দেশের বাস্তবতায় এদের কেউ কেউ জিতে আসতে পারলেও দেশ পুনর্গঠনে এবং বিনপির ভিশন ২০৩০ বাস্তবায়নে এরা কতটুকু ভূমিকা রাখতে পারবে সেটা সময়েই বলে দিবে। তবে একথা মোটামোটি ধারণা করাই যায় শেষমেশ বিএনপি জোট একক সংখ্যা গরিষ্ঠতার পথে। তবে বলা দরকার দেশ বিরোধী যুদ্ধাপরাধের সাথে জড়িত একটি দলের উল্লেখযোগ্য সংখক আসন পেয়ে যাওয়া বড়ই আশঙ্কার।
বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ভোটের শতাংশের তুলনায় আসনের ফলাফলে বড় পার্থক্য তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। ফলে এবারের নির্বাচনেও সামান্য ভোটের ব্যবধান অনেক আসনের ফল নির্ধারণ করতে পারে। বিশেষ করে তিন বা ততোধিক প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলে ভোট বিভাজনের কারণে অপ্রত্যাশিত ফলাফলও দেখা যেতে পারে।
বর্তমান নির্বাচনে তরুণ ভোটারদের ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দেশের মোট ভোটারের একটি বড় অংশ এখন তরুণ, যারা কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, শিক্ষা, প্রযুক্তি ও সুশাসনের মতো ইস্যুকে গুরুত্ব দিচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক প্রচারণা, নতুন রাজনৈতিক বক্তব্য এবং বিকল্প নেতৃত্বের প্রতি আগ্রহ নির্বাচনের গতিপথে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রিয় প্রার্থী, আঞ্চলিক উন্নয়ন ইস্যু এবং ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতাও অনেক আসনে দলীয় প্রতীকের বাইরে প্রভাব ফেলতে পারে।
অর্থনৈতিক বাস্তবতাও ভোটারদের সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। দ্রব্যমূল্য, কর্মসংস্থান, জ্বালানি ও অবকাঠামো উন্নয়ন, এবং বৈদেশিক বিনিয়োগের মতো বিষয়গুলো ভোটারদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যে দল এসব ইস্যুতে বিশ্বাসযোগ্য পরিকল্পনা তুলে ধরতে পারবে, তারা অতিরিক্ত সমর্থন পেতে পারে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করার বিষয়টিও ভোটারদের জন্য একটি বড় বিবেচ্য বিষয় হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
তবে এই পূর্বাভাস কোনো চূড়ান্ত ফল নয়, বরং বর্তমান তথ্য ও রাজনৈতিক গতিপ্রবাহের ভিত্তিতে একটি সম্ভাব্য চিত্র মাত্র। নির্বাচনের আগে প্রার্থিতা সমন্বয়, অর্থের অপব্যাবহার, প্রচারণার কৌশল, প্রশাসনিক পরিস্থিতি এবং ভোটার উপস্থিতি সবকিছু মিলিয়ে শেষ ফলাফল ভিন্ন হতে পারে। তাই রাজনৈতিক দলগুলো শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কৌশলগত প্রস্তুতি অব্যাহত রাখবে এবং ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা করবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।