আদিতমারী উপজেলা প্রতিনিধি:---------লালমনিরহাট জেলার লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক মাদক ও চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে এ অভিযানের অংশ হিসেবে ভিন্ন ভিন্ন বিওপির ০৪টি বিশেষ টহলদল পৃথক অভিযান পরিচালনা করে ভারতীয় মাদকদ্রব্য, গরু এবং কসমেটিকস জব্দ করেছে।
গোয়েন্দা সূত্রে বিজিবি জানতে পারে যে, চোরাকারবারীরা সীমান্তে গোপনে মাদক চোরাচালান করবে।
উক্ত তথ্যানুযায়ী, ০৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ সকাল ০৯:৪৫ ঘটিকায় রামখান বিওপির আওতাধীন মাঠেরপাড় (থানা-নাগেস্বরী, জেলা-কুড়িগ্রাম) এবং ০৪ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ রাত ০৯:০০ ঘটিকায় দৈখাওয়া বিওপির আওতাধীন গুটিয়ামঙ্গল
(থানা-হাতিবান্ধা, জেলা-লালমনিরহাট) ও একই তারিখ দুপুর ০৩:৩০ মিনিটে দিঘলটারী বিওপির আওতাধীন পূর্ব দিঘলটারী (থানা-আদিতমারী, জেলা-লালমনিরহাট) এবং রাত ১২:৩০ মিনিটে বালারহাট বিওপির আওতাধীন বালাতারী (থানা-ফুলবাড়ী, জেলা-কুড়িগ্রাম) নামক স্থানে ০৪টি পৃথক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
উক্ত অভিযানসমূহ চলাকালীন টহল দলের সদস্যরা কতিপয় সন্দেহজনক ব্যক্তিদের আসতে দেখে তাদের গতিবিধি লক্ষ্য করে ধাওয়া করলে চোরাকারবারীরা তাদের সাথে থাকা মালামাল ফেলে দৌড়ে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে চলে যায়।
পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে তল্লাশী করে ভারতীয় বিভিন্ন প্রকার কসমেটিকস সামগ্রী ২,৬৫৮পিছ, গাঁজা ৯.৬ কেজি, ০১টি মোটরসাইকেল ও ইস্কাফ সিরাপ ৪৪ বোতল এবং গরু ০১টি জব্দ করা হয়।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর অধিনায়কের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জব্দকৃত ভারতীয় বিভিন্ন প্রকার কসমেটিকস সামগ্রী ২,৬৫৮ পিছ, যার সিজার মুল্য ৫,৯৯,৪০০/-, গাঁজা ৯.৬ কেজি, যার সিজার মুল্য ৩৩,৬০০/-, মোটরসাইকেল ০১টি, যার সিজার মুল্য ১,৫০,০০০/-টাকা ও ইস্কাফ সিরাপ ৪৪ বোতল, যার সিজার মূল্য ১৭,৬০০/- এবং গরু ০১টি, যার সিজার মুল্য ১,২০,০০০/- টাকাসহ সর্বমোট সিজার ৯,২০,৬০০/- টাকা।
এছাড়াও মাদক ও চোরাচালান চক্রের সংশ্লিষ্ট চোরাকারবারীদের তথ্য সংগ্রহপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর কমান্ডিং অফিসার “লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম, পিএসসি” বলেন, সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান দমন ও মানব পাচার প্রতিরোধে বিজিবি সবসময় আপসহীন। “দেশের যুবসমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও প্রস্তুত রয়েছে। চোরাচালানমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
সীমান্তের স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে আমরা গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে।