দর্শনায় অবৈধ ডিজেল মজুত: ব্যবসায়ীকে জরিমানা, জব্দকৃত তেল কৃষকদের মাঝে বিক্রি।
মোঃ নাঈম উদ্দীন,
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনায় সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে অবৈধভাবে ডিজেল মজুত ও রাতের আঁধারে বিক্রির দায়ে মেসার্স এস আর এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মালিককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সাথে জব্দকৃত ১৩০ লিটার ডিজেল কৃষকদের কাছে বিক্রি করে লব্ধ অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) রাতে দর্শনা পুরাতন বাজারের মেসার্স এস আর এন্টারপ্রাইজের মালিক সেলিম উদ্দীন শান্ত প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে মজুত করা ডিজেল জনৈক ট্রাক্টর চালকের কাছে বিক্রি করছিলেন। বিষয়টি এলাকাবাসীর নজরে এলে তারা তাৎক্ষণিকভাবে দর্শনা থানা পুলিশকে অবহিত করেন।
খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সত্যতা যাচাই করে এবং ডিজেলসহ ট্রাক্টর ও এর চালককে আটক করে। পরবর্তীতে বিষয়টি দামুড়হুদা উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়।
খবর পাওয়ার পর রাত পৌনে ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন দামুড়হুদা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ শাহীন আলম। তিনি ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।
আদালত পরিচালনাকালে পেট্রোলিয়াম আইন ২০১৬-এর ২০(১) ধারা অনুযায়ী লাইসেন্স ব্যতীত অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুত ও বিপণনের অপরাধে ব্যবসায়ী সেলিম উদ্দীন শান্তকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। একই সাথে দোকানে অবৈধভাবে মজুত রাখা আনুমানিক ১৩০ লিটার ডিজেল জব্দ করে পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন তিনি।
আজ বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকালে জব্দকৃত তেল নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভিন্নধর্মী ও জনবান্ধব পদক্ষেপ নেওয়া হয়। জব্দকৃত ১৩০ লিটার ডিজেল স্থানীয় কৃষকদের কাছে সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করা হয়। বিক্রয়লব্ধ সম্পূর্ণ অর্থ বিআর (চালান)-এর মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা প্রদান করা হয়েছে।
অন্যদিকে, আটককৃত ট্রাক্টর চালকের কাছে উপজেলা কৃষি অফিসের বৈধ ‘ফুয়েল কার্ড’ থাকায় এবং তিনি কেবল ক্রেতা হওয়ায় মানবিক ও আইনগত দিক বিবেচনা করে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহীন আলম জানান:
"জ্বালানি তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং অবৈধ মজুতদারি রুখতে প্রশাসন সর্বদা সজাগ রয়েছে। লাইসেন্সবিহীন যারা তেল মজুত করছেন, তাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। জনসাধারণের সহযোগিতায় আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সক্ষম হয়েছি।"
এই অভিযানে দর্শনা থানা পুলিশের একটি চৌকস দল ভ্রাম্যমাণ আদালতকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে। গভীর রাতে প্রশাসনের এই তড়িৎ পদক্ষেপে স্থানীয় সচেতন মহলের মাঝে স্বস্তি বিরাজ করছে।