সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:---------ফরিদপুরের সালথায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জেরে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত টানা কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
[caption id="attachment_16016" align="alignnone" width="300"]
সালথায় টর্চলাইট জ্বালিয়ে বাড়িঘরে হামলা-ভাঙচুর।[/caption]
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রায় ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের বালিয়া বাজার ও আশপাশের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এতে কয়েক গ্রামের শত শত মানুষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অংশ নেয়। সংঘর্ষকারীরা অন্তত ১৫ থেকে ২০টি বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়।
এ সময় জাহিদ মাতুব্বরের সমর্থকরা প্রতিপক্ষের দেলো মাতুব্বরের বসতবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। আগুনে ঘরের ভেতরের বিছানাপত্রসহ মূল্যবান আসবাবপত্র পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গট্টি ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে জাহিদ মাতুব্বর ও নুরু মাতুব্বরের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। বর্তমানে তারা দুজনেই বিএনপির সমর্থক হিসেবে পরিচিত হলেও অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এর আগেও একাধিকবার এই দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার বিকেলে দাওয়াত খেয়ে ফেরার পথে জাহিদ মাতুব্বরের সমর্থক আরিফ মাতুব্বরকে ভ্যান থেকে নামিয়ে মারধর করে নুরু মাতুব্বরের সমর্থকেরা। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এদিকে পাল্টা হিসেবে জাহিদ মাতুব্বরের সমর্থকেরা পাশাগট্টি এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসহাক মাতুব্বরের বড় ছেলে ইকরামকে আক্রমণ করে এবং তার বাড়িঘরে ভাঙচুর চালায় বলে জানা গেছে। এতে পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
পরবর্তীতে সন্ধ্যা নামতেই উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত টর্চলাইট জ্বালিয়ে চলে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, যা এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।
সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের হামলা-পাল্টা হামলায় অন্তত ১৫ থেকে ২০টি বসতঘর ভাঙচুর করা হয় এবং একটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এছাড়া জাহিদ মাতুব্বরের সমর্থক আবুল শেখের তিনটি গরু লুট করে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
এ ঘটনায় আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে বিএনপি নেতা জাহিদ মাতুব্বর ও নুরু মাতুব্বরের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি; পরে তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবুলুর রহমান খান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় শান্ত পরিবেশ বিরাজ করছে। সংঘর্ষ এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ও টহল জোরদার করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি; অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।