বিশেষ প্রতিনিধিঃ------
চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী পাটাচোরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক বর্ণাঢ্য ও আবেগঘন বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আজ বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মোঃ শরিফ উদ্দিনের দীর্ঘ ২৬ বছরের শিক্ষকতা জীবন শেষে অবসর গ্রহণ উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ শাহজাহান আলী-র সভাপতিত্বে আয়োজিত এই বিদায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দামুড়হুদা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান এবং বিশিষ্ট সমাজসেবক মোঃ আজিজুর রহমান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুল আলীম। এছাড়াও অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিকবৃন্দ এবং বিদ্যালয়ের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোঃ আজিজুর রহমান বলেন:
"একজন আদর্শ শিক্ষকের শূন্যস্থান কখনো পূরণ হয় না। শরিফ উদ্দিন স্যার শুধু পাঠদানই করেননি, তিনি এই এলাকার কয়েক প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেছেন। ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়ের উন্নয়নে তার অবদান অনস্বীকার্য।"
সহকারী প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুল আলীম তার দীর্ঘদিনের সহকর্মীর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি শরিফ উদ্দিন স্যারের কর্মনিষ্ঠা ও বন্ধুসুলভ আচরণের প্রশংসা করেন।
উল্লেখ্য যে, ১৯৯৪ সালে পাটাচোরা মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ২০০০ সালে শরিফ উদ্দিন স্যার সহকারী শিক্ষক হিসেবে এই প্রতিষ্ঠানে যোগদান করেন। দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে তিনি মেধা, শ্রম ও মমতায় শিক্ষার্থীদের আগলে রেখেছেন।
বিদায়ী ভাষণে মোঃ শরিফ উদ্দিন বলেন,
"২০০০ সালে যখন এই বিদ্যালয়ে পা রেখেছিলাম, তখন অনেক স্বপ্ন ছিল। আজ বিদায়বেলায় সেইসব স্মৃতি চোখে ভাসছে। সহকর্মী শিক্ষক যারা আমার আত্মার বন্ধু হয়ে উঠেছিলেন এবং প্রাণপ্রিয় শিক্ষার্থীদের ছেড়ে যেতে আজ বুক ফেটে যাচ্ছে। তবে আমি যেখানেই থাকি, এই বিদ্যালয় সবসময় আমার হৃদয়ে থাকবে।"
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে মানপত্র পাঠ করা হয় এবং বিদায়ী শিক্ষককে বিশেষ সম্মাননা স্মারক ও উপহার প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। প্রিয় শিক্ষককে বিদায় দিতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থীকে অশ্রুসজল নয়নে দেখা যায়।
শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর অকৃত্রিম ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে এক সময়ের প্রাণচঞ্চল এই শিক্ষক আজ তার বর্ণিল কর্মজীবন থেকে আনুষ্ঠানিক বিদায় নিলেন। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।