
উত্তর ধরল,প্রতিনিধিঃ——কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে স্কুল ব্যাগে করে অভিনব কায়দায় গাঁজা পাচারের সময় ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীসহ কুখ্যাত মাদক কারবারি সুলতান মিয়াকে (৬৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত সুলতান মিয়া কেবল মাদক কারবারিই নন, তিনি নিজ কন্যাকে ধর্ষণের মামলারও সাজাপ্রাপ্ত আসামি। সোমবার (৬ এপ্রিল, ২০২৬) দুপুরে গ্রেপ্তারকৃতদের মাদক মামলায় কুড়িগ্রাম আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার সকালে ফুলবাড়ী ধরলা ব্রিজ চেকপোস্টে তল্লাশিকালে ১২ বছর বয়সী শিক্ষার্থী আলিব মিয়ার বাইসাইকেল ও স্কুল ব্যাগ তল্লাশি করা হয়। এসময় ব্যাগের ভেতর বই-খাতার পরিবর্তে ২ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা পাওয়া যায়। আটক আলিব মিয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের জহুরুল হকের ছেলে। পরে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ওইদিন সন্ধ্যায় বিদ্যাবাগিস গ্রামে অভিযান চালিয়ে মূল হোতা সুলতান মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আব্দুল্লাহ আল হাসান জানান, সুলতান মিয়া সম্পর্কে ওই শিক্ষার্থীর খালু। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিতে তিনি ওই শিশুকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে আসছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্কুল ব্যাগ ব্যবহার করে তিনি বিভিন্ন স্থানে মাদকের সরবরাহ পাঠাতেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সুলতান মিয়ার পুরো পরিবারই একটি সংঘবদ্ধ মাদক সিন্ডিকেট। সুলতান নিজে বিকৃত রুচির অপরাধী এবং ইতিপূর্বে নিজ দ্বিতীয় কন্যাকে ধর্ষণের অভিযোগে জেল খেটেছেন। তার স্ত্রী ও চার মেয়ের বিরুদ্ধেও কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট জেলায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিজেকে বিজিবির ‘লাইনম্যান’ পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতেন সুলতান। মাদকের অবৈধ টাকায় গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড়। তার ও তার পরিবারের সদস্যদের হুমকির মুখে এলাকাবাসী সবসময় আতঙ্কে থাকে।

ফুলবাড়ী থানা পুলিশ সূত্রে জানানো হয়, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত থাকবে। এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদেরও আইনের আওতায় আনতে অভিযান চলমান রয়েছে।
মন্তব্য করুন