
চুয়াডাঙ্গা বিশেষ প্রতিনিধিঃ———চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্ত এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এক সফল অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণসহ এক চোরাকারবারিকে আটক করেছে। উদ্ধারকৃত স্বর্ণের বাজারমূল্য প্রায় আড়াই কোটি টাকা বলে নিশ্চিত করেছে বিজিবি কর্তৃপক্ষ।
আজ সোমবার ভোররাত থেকে বিজিবি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, দর্শনা সীমান্ত দিয়ে একটি বড় ধরনের স্বর্ণের চালান ভারতে পাচারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
এই সংবাদের ভিত্তিতে চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের (৬ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ নাজমুল হাসানের সরাসরি নেতৃত্বে একটি বিশেষ টহল দল দর্শনা পুরাতন রেলস্টেশন এলাকায় অবস্থান নেয়। এলাকাটি সীমান্ত থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অবস্থিত।

ভোর ৫টা ৫০ মিনিটের দিকে বিজিবি সদস্যরা এক ব্যক্তিকে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখেন। তার গতিবিধি অস্বাভাবিক মনে হওয়ায় বিজিবির টহল দল তাকে থামার জন্য সংকেত দেয়। তবে বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে ওই ব্যক্তি সিগন্যাল অমান্য করে দ্রুত পালানোর চেষ্টা করেন।
বিজিবি সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে ধাওয়া করে তাকে আটক করতে সক্ষম হন।
আটককৃত ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি হলেন দর্শনা পৌর মোবারক পাড়ার মৃত বাদল খানের ছেলে আলঙ্গীর খান (৫৫)।
আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আলঙ্গীর খান তার কাছে কোনো অবৈধ মালামাল থাকার কথা অস্বীকার করেন। তবে তার আচরণে সন্দেহ কাটেনি বিজিবির। পরে তল্লাশি চালিয়ে তার কোমরে সুকৌশলে প্যাঁচানো স্কচ টেপ দিয়ে মোড়ানো দুটি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়।
প্যাকেটগুলো খুলে দেখা যায়, তার মধ্যে স্বচ্ছ ও চকচকে ১০টি স্বর্ণের বার রয়েছে। ডিজিটাল স্কেলে পরিমাপ করে দেখা যায় যে, উদ্ধারকৃত স্বর্ণের মোট ওজন ১ কেজি ১৬৬ গ্রাম।
বিজিবি চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ নাজমুল হাসান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন:
স্বর্ণের ওজন: ১ কেজি ১৬৬ গ্রাম। আনুমানিক বাজারমূল্য: ২ কোটি ৪৭ লাখ ৮৯ হাজার ১৬০ টাকা। অন্যান্য জব্দ- একটি রিয়েলমি মোবাইল ফোন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, আটককৃত ব্যক্তিকে দর্শনা থানায় সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে এবং জব্দকৃত স্বর্ণের বারগুলো চুয়াডাঙ্গা ট্রেজারি অফিসে জমা দেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সীমান্তে চোরাচালান রোধে বিজিবির এই কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়।
সীমান্তে অবৈধ পাচার রোধে বিজিবির এই ঝটিকা অভিযান স্থানীয় মহলে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। এলাকাবাসীর মতে, এ ধরনের তৎপরতা বজায় থাকলে সীমান্ত দিয়ে মাদক ও স্বর্ণ চোরাচালান অনেকাংশে কমে আসবে।
মন্তব্য করুন