
ঘুষ ছড়া কোন কাজই করেন না মোটরযান পরিদর্শক মেহেদী হাসান কামরুল।
ডেস্ক নিউজ ।
ঘুষ ছাড়া কোন কাজই করেন না মেহেদী হাসান কামরুল, বড় বোনের হাসবেন্ড ছিলেন ফরিদপুর বিআরটিএর দালাল, সেই সুবাদে প্রতিবন্ধী কোটায় ২০১৪ সালের ২২ শে ডিসেম্বর চাকরি পান এই মেহেদী হাসান কামরুল। চাকরি পাওয়ার পর থেকেই যেন আলাদিনের চেরাগ পেয়ে যান। যেখানে চাকরি করেছেন সেখানেই তার বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক অভিযোগ। ঘুষ ছাড়া কোন কাজই করেন না।
বিআরটিএ (BRTA)-এর রেকর্ড অনুযায়ী, মোটরযান পরিদর্শক মেহেদী হাসান (পুরো নাম মেহেদী হাসান কামরুল) চাকরিতে যোগদানের তারিখ ২২ ডিসেম্বর ২০১৪।

চাকরির সময় ৮ শতক জমির মালিক ছিলেন তার পরিবার এবং তিনি। চাকরি পাওয়ার পর থেকেই সম্পদের পাহাড় গড়তে শুর করেছন এই মেহেদী। তার নিজ এলাকা তাম্বুলখানার সবাই তাকে ঘুষখোর কামরুল হিসেবেই চেনেন।
মেহেদী হাসান কামরুল বাড়ীর পাশেই সাত্তারের কাছ থেকে ৬ শতাংশ জমি প্রায় ৫০ লাখ টাকায় ক্রয় করেছেন। ভবেশ এর ৫-৬ শতাংশ জমি ৫০ লাখ টাকায় ক্রয় করেছেন। এছাড়া সমেপুর বাজারে ৩টি দোকান ৩০-৩৫ লক্ষ টাকায় ক্রয় করেছেন বলেও জানা গেছে।
অন্যদিকে, সমেপুর বাজারের দক্ষিণ পাশে পুকুরের ভিতরে পিলারসহ কয়েক শতাংশ জমি রয়েছে মেহেদী হাসান (কামরুল) এর। তিনি ২০-২৫ লাখ টাকায় এই জমি ক্রয় করেছেন। শুধু তাই নয়, তিনি ৩ তলা ফাউন্ডেশনের বাড়ির ১ তলা সম্পূর্ণ করেছেন ৫০-৬০ লাখ টাকায়। এছাড়া বাড়ির পাশে দুলাল সরদারের সাড়ে ৫ শতাংশ জমি ৫০-৬০ লাখ টাকায় ক্রয় করবেন মর্মেও ২ লক্ষ টাকা বায়না দিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে বড় বোনের বাড়ির পাশে পুকুরসহ ক্রয় করেছেন তিনি, যার মূল্য প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা। এছাড়াও ৪০ লাখ টাকায় তার আন্তঃজেলা ২টি ট্রাক (ঢাকা-মেট্রো-ক-২০-৫৮৩১, ঢাকা মেট্রো-ট-১৩-৩৩৭০) রয়েছে।
শুধু নিজের বাড়ি বা বোনের বাড়িতেই নয়, ভগ্নিপতি মো. জহির শেখকে ১৫ লক্ষাধিক টাকায় ফরিদপুরের মধুখালীর মাঝকান্দি বাজারে সেনেটারী, হার্ডওয়্যার ও টাইলস এর দোকান করে দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, শ্বশুরবাড়ি এলাকায়ও তিনি একটি বাগান ক্রয় করেছেন, যার মূল্য ২৫-৩০ লক্ষ টাকা। এছাড়া ফরিদপুর ও ঢাকায় নামে-বেনামে অনেক ফ্ল্যাট বাড়ী রয়েছে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
তার এই অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন অফিস স্টাফ বলেন তিনি কারো কথাই শুনেন না এমনকি সহকারি পরিচালক স্যারের কথাও শোনেন না। ইচ্ছে মতো অফিসে আসেন ইচ্ছামতো যান, সেবা প্রত্যাশী সবার সাথেই খারাপ আচরণ করেন। আপনারা সেবা প্রত্যাশীদের কাছে শুনলেই তার সম্পর্কে সব জানতে পারবেন।
ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে আসা এক গ্রাহকের কাছে তার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন তিনি রাজবাড়ীতে ছিলেন তিনি মানুষের সাথে যা তা খারাপ আচরণ করেন। একবার গেলে মনে হয় না যে আর তার কাছে আবার কাজের জন্য যাই। কাজ করতে আসলে দিনের পর দিন ঘোরান। যদি আবার টাকার বিনিময়ে কোন দালালের মাধ্যমে আসা যায় দেনা দিন কাজ হয়ে যায়।
তার বক্তব্যের জন্য একাধিকবার তার অফিসে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি,একাধিকবার তাকে ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে সহকারি পরিচালক পলাশ খীসা বলেন আমি তার বিষয়ে সব শুনেছি, আমি তো নতুন এসেছি তাই কিছু বলতে পারব না।
মন্তব্য করুন