

চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা ও সদর থানা এলাকায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) এক ঝটিকা অভিযান চালিয়ে ইয়াবা, ট্যাপেন্টাডল, বুপ্রেনরফাইন ইনজেকশন ও গাঁজাসহ ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত পরিচালিত এই অভিযানে গ্রেপ্তারকৃতদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয়, চুয়াডাঙ্গার একটি চৌকস দল আলমডাঙ্গা ও চুয়াডাঙ্গা সদর থানার বিভিন্ন এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে মাদক সেবন ও বিক্রির অপরাধে হাতেনাতে ৮ জনকে আটক করা হয়। উদ্ধারকৃত
আলামতের মধ্যে রয়েছে:
ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট: ১১ পিস
বুপ্রেনরফাইন ইনজেকশন: ০১ পিস
ইয়াবা ট্যাবলেট: ০১ পিস
গাঁজা: ০৫ গ্রাম

অভিযান শেষে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো: আব্দুল্লাহ আল শামীম (আলমডাঙ্গা) এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এস এম আশিস মোমতাজ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে সাজা ঘোষণা করেন।
ফরিদপুরের মৃত জালাল উদ্দিনের ছেলে মো: বিশারত আলী (৩৮) এবং নওদাবন্ডবিলের মৃত মওলা বক্সের ছেলে মো: কলম (৫০) কে মাদক সেবনের অপরাধে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে ৫০০ টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
মাদক বিক্রয় ও সংরক্ষণের দায়ে ৪ জনকে ১ বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৩,৯০০ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন:
মো: নুর আলম (৩২): তার নিকট থেকে ১ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
মো: ফিরোজ (৩০): তার নিকট থেকে ৮ পিস ট্যাপেন্টাডল উদ্ধার করা হয়।
মো: সোহাগ হোসেন (৩৩): তার নিকট থেকে ২ পিস ট্যাপেন্টাডল উদ্ধার করা হয়।
মো: সোহাগ ইসলাম (২১): তার নিকট থেকে ১ পিস ট্যাপেন্টাডল উদ্ধার করা হয়।
পামপাড়া স্কুলপাড়ার মৃত বাদশার ছেলে মো: আশাদুল (৫০) কে ১ পিস বুপ্রেনরফাইন ইনজেকশনসহ আটকের পর ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া ৫ গ্রাম গাঁজাসহ আটক সুমিরদিয়া কলোনিপাড়ার মো: তুহিন (২৫) কে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা জরিমানা করা হয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, জেলাকে মাদকমুক্ত করতে এই ধরনের চিরুনি অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না।
অভিযান শেষে সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের জেলহাজতে প্রেরণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। চুয়াডাঙ্গার সাধারণ মানুষ প্রশাসনের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন