

চুয়াডাঙ্গা জেলার সামগ্রিক উন্নয়ন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং প্রশাসনিক গতিশীলতা আনয়নের লক্ষ্যে আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দিনভর জেলাজুড়ে ব্যাপক তৎপরতা চালিয়েছেন চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিজ্ লুৎফুন নাহার।
সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিল্প উৎপাদন পর্যবেক্ষণ এবং বিচারিক কার্যক্রমের সমন্বয় সাধনে তিনি বিভিন্ন সভায় সভাপতিত্ব ও সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।
দিনের সূচনায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ‘জেলা সড়ক নিরাপত্তা কমিটি’র এক গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্বকালে জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার চুয়াডাঙ্গার সড়কগুলোতে দুর্ঘটনা হ্রাসে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেন।
ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ, চালকদের প্রশিক্ষণ এবং যত্রতত্র পার্কিং উচ্ছেদ।

সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহকে (বিআরটিএ, হাইওয়ে পুলিশ ও সড়ক বিভাগ) সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন তিনি।
সড়ক নিরাপত্তার সভা শেষে তিনি চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মাখালডাঙ্গা গ্রামে ছুটে যান। সেখানে তিনি স্থানীয় কৃষকদের দীর্ঘদিনের দাবি ‘খালখনন কর্মসূচি’র শুভ উদ্বোধন করেন।
এই প্রকল্পের ফলে ওই অঞ্চলের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটবে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিরসন এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধা বৃদ্ধির মাধ্যমে কৃষি উৎপাদনে এক নতুন বিপ্লব সূচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দুপুরে জেলা প্রশাসক দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনায় অবস্থিত দেশের ঐতিহ্যবাহী শিল্প প্রতিষ্ঠান কেরু এন্ড কোম্পানি পরিদর্শন করেন।
তিনি চিনি কল ও ডিস্টিলারি ইউনিটের উৎপাদন প্রক্রিয়া সরেজমিনে দেখেন।
প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়ে মূল্যবান পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
বিকালে তিনি জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় আকস্মিক পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি সরকারি গুদামে খাদ্যশস্যের মজুদ পরিস্থিতি এবং চলমান সংগ্রহ অভিযান সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
সাধারণ মানুষ যাতে সঠিক মূল্যে ও গুণগত মানের খাদ্যশস্য পায়, সে বিষয়ে কর্মকর্তাদের সজাগ থাকার নির্দেশ দেন।
দিনের শেষ পর্বে জেলা প্রশাসক চুয়াডাঙ্গা জেলার বিজ্ঞ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ও গভর্নমেন্ট প্লিডার (জিপি) মহোদয়গণের সাথে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন।
“বিচারিক প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রসিকিউটরদের ভূমিকা অপরিসীম।” — লুৎফুন নাহার, ডিসি, চুয়াডাঙ্গা।
সভায় জেলার বর্তমান বিচারিক কার্যক্রমের অগ্রগতির পাশাপাশি সামাজিক ব্যাধি বাল্যবিবাহ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বাল্যবিবাহের নেতিবাচক প্রভাব ও আইনি জটিলতা নিরসনে আইন কর্মকর্তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে জনসচেতনতা তৈরির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।
জেলা প্রশাসকের এই কর্মব্যস্ত দিনটি চুয়াডাঙ্গার প্রশাসনিক তৎপরতা ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, জেলা প্রশাসনের এই ধরনের তদারকি ও উন্নয়নমূলক উদ্যোগ জেলাকে একটি আধুনিক ও সমৃদ্ধ জনপদে রূপান্তর করতে সহায়ক হবে।
মন্তব্য করুন